ফেরমাহাত্ম্য
‘তারয়িংসমর্থঃ ইতি তীর্থঃ-যে স্থান আমাদের ত্রাণ করতে সমর্থ তাকে
তীর্থস্থান বলা হয়। দেবদেবীর শক্তির প্রভাব, মঠ মন্দির, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে
ভরপুর, সাধুসন্ত বেষ্টিত ও নদী কিংবা সমুদ্রতীরবর্তী স্থানকে তীর্থ স্থান বলে।
বিভিন্ন পুরাণে তীর্থের মাহাত্ম সম্পর্কে অনেক কথা লেখা আছে। তীর্থ দর্শনে
পাপমুক্তি ঘটে—মােক্ষলাভ হয়। তীর্থভ্রমণ করলে মানসিক শান্তি আসে ও
মনস্কামনা পূরণ হয়।

অগ্নিষ্টোম যজ্ঞের ন্যায় বিশাল যজ্ঞ করে যে পুণ্যলাভ হয় তার চেয়েও
অনেক বেশি পুণ্যলাভ হয় তীর্থযাত্রা করলে। আত্মশুদ্ধি ও আত্মকল্যাণই হল
তীর্থযাত্রার ফল। মহাভারতে আছে—

পুষ্করে তু কুরুক্ষেত্রে গঙ্গায়াং মগধেষু চ।।

স্নাত্বা তারয়তে জন্তুঃ সপ্ত সপ্তাবরাংস্তথা।।
যে ব্যক্তি পুষ্কর, কুরুক্ষেত্র, গঙ্গা, মগধ প্রভৃতি তীর্থে ভ্রমণ করে সেই ব্যক্তি
তার পূর্বের ও পরের সাতপুরুষকে উদ্ধার করতে পারে।।
নারদ পুরাণে আছে-

কামং ক্রোধং চ লােভং যাে জিত্বা তীৰ্থৰ্মাবিশেৎ।

| ন তেন কিঞ্চিদপ্রাপ্তং তীর্থভিগমনাৎ ভবেৎ৷৷
| যে ব্যক্তিকাম ক্রোধ ও লােভকে জয় করে সেই ব্যক্তি তীর্থ্যাত্রার সর্বপ্রকার
সুফল লাভ করে।
স্কন্দপুরাণে আছে-

যস্য হস্তেী চ পদৌ চ মনশ্চৈব সুসংযতাম।

নির্বিকারাঃ ক্রিয়াঃ সৰা সতীর্থফলম্ অতে।।
যে ব্যক্তির হাত পা, মন সংযমিত ও যে ব্যক্তি সর্বদা নির্বিকার অবস্থায়
সকল ক্রিয়া সম্পন্ন করে সেই ব্যক্তি তীর্থ যাত্রার সম্পূর্ণ ফল লাভ করে।

Post a Comment

0 Comments